ভিজিট
চারতলা পর্যন্ত ওঠার পর থেকেই আখলাকুর রহমান সাহেবের বুকে হাঁপ ধরে যায়। তার বাসা পাঁচতলায়। বাকি সিঁড়িগুলোকে পেছনে ফেলতে তার খুবই কষ্ট হয়। মনে হয় তিনি ক্লান্ত শরীরে যুদ্ধ করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছেন। মাঝে মাঝে মনে হয় সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতেই একদিন তার হার্ট এ্যাটাক হবে। তার মৃত্যু হবে যুদ্ধক্ষেত্রে।
আখলাকুর রহমান সাহেব ঠিক করে ফেললেন, আজ থেকে তার অনশন শুরু। বাসা না পাল্টানো পর্যন্ত তিনি এক ফোঁটা পানিও খাবেন না। তিনি যতবার তার ছেলেকে বাসা পাল্টানোর কথা বলেন, ছেলের একই জবাব- আগামী শুক্রবারে বাসা দেখবো। সেই শুক্রবার গত ছয়মাসে একদিনও আসেনি। স্ত্রীকেও তিনি তার সঙ্গে অনশনে অংশ নিতে বলবেন। তবে তিনি নিশ্চিত জাহানারা অংশ নেবে না। ইদানীং তিনি যা বলেন জাহানারা সবকিছু তার উল্টা করে। অনশনে করতে বললে বলবে তার ডায়াবেটিস। ঘন ঘন খিদা লাগে। তার পক্ষে অনশন করা সম্ভব না।
পাঁচ তলার শেষ সিঁড়িটা পার হয়ে বড় করে একটা দম নিলেন আখলাকুর রহমান। সকালে হাঁটাহাঁটি করতে তিনি আর নিচে নামবেন না। এখন থেকে বাসায়ই হাঁটবেন। হায়াত যতদিন আছে তার বেশি তিনি বাঁচতে পারবেন না। সারাদিন হাঁটলেও না।
দরজা খুলে দিয়ে জাহানারা বললো, নাস্তা কি এখনই দেব?
না।
কেন? হোটেলে খেয়ে এসেছেন?
না। বাসা না পাল্টানো পর্যন্ত আমি আর কিছুই খাবো না। এক ফোঁটা পানিও না।
তাইলে শরবত খান। লেবু দিয়া এক গ্লাস শরবত করে দিই।
আখলাক সাহেব রেগে গেলেন, শরবত খাব কেন? শরবতের মধ্যে পানি নাই?
জাহানারা গটগট করে অন্যঘরে চলে গেলো। আখলাক সাহেব মনে মনে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন- এই মহিলা করবে, অনশন! তবে তিনি যা ভেবেছেন সেটাই ফাইনাল। তার অনশন শুরু হয়ে গেছে। বাসার সবাই তার হাতে পায়ে ধরলেও তিনি খাবেন না। এক ফোঁটা পানিও না।
সকালের নাস্তার সময় পার হয়ে দুপুর ছুঁই ছুঁই। কেউ এসে একবারও তাকে আর নাস্তা খেতে বলেনি। সবাই তাকে অনুরোধ করছে তিনি খাচ্ছেন না-- এর মধ্যে এক ধরনের আনন্দ আছে। তিনি সেই আনন্দ উপভোগ করতে পারছেন না। জাহানারা মনে হয় ভুলেই গেছে যে তিনি নাস্তা খাননি।
দুপুর বেলা তার প্রচন্ড খিদে পেয়ে গেলো। কী যন্ত্রণা, অনশন এত কষ্টের কাজ আগে তিনি বুঝতেই পারেননি। এখন তো মনে হচ্ছে অনশন করাটা সিঁড়ি বেয়ে দশ তলায় ওঠার চেয়ে কষ্টের কাজ। তবে তার সবচেয়ে বড় কষ্ট হচ্ছে আজ সারাদিন তিনি কিছুই খাননি, এটা নিয়ে বাসায় কারো মাথাব্যথা নেই। এই না খাওয়া শরীরে জোহরের লম্বা নামাজ তিনি কী করে পড়বেন, কে জানে!
অনশনের সিদ্ধান্ত নেয়াটা বিরাট বোকামো হয়েছে। দুপুরে সবাই একে একে খাবার টেবিলে চলে যাচ্ছে, তাকে কেউ ডাকছে না। খাবার টেবিল থেকে বিরিয়ানির গন্ধ আসছে। বিরিয়ানি তার খুবই পছন্দের খাবার। কেউ যদি তাকে প্রশ্ন করে আপনার পছন্দের তিনটি খাবারের নাম বলেন। তিনি বলবেন বিরিয়ানি, বিরিয়ানি এবং বিরিয়ানি। ড্রইং রুমের যে সোফাটায় তিনি বসেছিলেন সেখান থেকে ডাইনিং টেবিলে সরাসরি চোখ পড়ে। তিনি অন্যপাশের সোফায় গিয়ে বসলেন। তার সাত বছরের নাতনী এসে বললো, দাদাভাই আজকের বিরানিটা অনেক মজা হয়েছে।
আখলাক সাহেব মুখ টিপে হাসলেন। কষ্টের হাসি। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হলো। তিনি আর থাকতে পারছেন না। প্রেস ক্লাবের সামনে মানুষ দিনের পর দিন কীভাবে অনশন করে কে জানে! তিনি তো একটা দিনও পার করতে পারছেন না। এভাবে আর কিছুক্ষণ না খেয়ে থাকলে তার সুগার লেভেল নেমে যাবে। তিনি মারা যাবেন। আগে বুঝতে পারলে তিনি কিছুতেই অনশনে যেতেন না। তাও আবার স্বঘোষিত অনশন।
আখলাক সাহেব বাথরুমে ঢুকলেন। মাগরিবের আজান পড়েছে। ওজু করতে গিয়ে তিনি লুকিয়ে কয়েক ঢোক পানি খেয়ে ফেললেন। পানি খাওয়ার পর থেকেই পেটে পাক দিতে শুরু করেছে। জায়নামাজে দাঁড়িয়ে তিনি সিজদায় গেলেন কিন্তু সিজদা থেকে আর উঠে বসতে পারলেন না। মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন। তকে পড়ে যেতে দেখে কাজের মেয়ে ‘ওরে আল্লা’ বলে চিৎকার করে দৌড়ে এলো।
আখলাক সাহেবকে টেনে তোলা হয়েছে। তার অনশন ভেঙে গেছে। জোর করে তাকে তার সবচেয়ে অপ্রিয় খাদ্য নুডলস খাইয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বারবার বলছেন, আমি খাবো না, খেতে পারছি না। এটা কোনো খাওয়ার জিনিস হলো! কিন্ত তার কথা কেউ শুনছে না। জোর করে মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে জাহানারা বলছে, অনশন করা চলবে না। আপনাকে খেতেই হবে।
কিছুক্ষণ আগেও এই পরিবারের সাতজন সদস্য তাকে ঘিরে ছিলো। সবছেয়ে ছোট সদস্য, তার নাতনী ছাড়া একে একে সবাই যে যার মতো আবার ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তার সাত বছরের নাতনী লামিয়া একটা কৌতূহল নিয়ে তার কাছে বসে আছে। সে বললো, অনশন কী দাদাভাই? তুমি অনশন করছিলে কেন?
কথা বলতে ইচ্ছে করছিলো না, আখলাক সাহেব তবু বললেন, অনশন হচ্ছে কোনো দাবী আদায়ের জন্য এক প্রকার সংগ্রাম।
সংগ্রাম কি? লামিয়ার দ্বিতীয় প্রশ্ন।
আখলাক সাহেব বললেন, যুদ্ধ।
লামিয়া খুশি হয়ে বললো, যুদ্ধ কি আমি জানি। টিভিতে দেখেছি। বন্দুক দিয়ে ঠাস করে গুলি করে। তোমার বন্দুক আছে?
আখলাক সাহেব বললেন, আমার বন্ধুকও নেই, গুলিও নেই।
লামিয়ার কথায় তিনি হুঁশে এলেন, তাহলে তুমি যুদ্ধ করছো কেন? তুমি তো হারবে।
আখলাক সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তিনি তো হেরেই আছেন। সারাদিন না খেয়ে থাকলেও তার খবর কেউ নেয় না। তার দুই ছেলে। দুজনই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। তাকে দেয়ার মতো সময় তাদের কোথায়! তার ছোট ছেলে একটা ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার। বড় ছেলে আশফাকুর রহমান এই শহরের সবচেয়ে নামকরা ডাক্তার। তার এ্যাপোয়েন্টমেনন্ট পেতে এক মাস আগে সিরিয়াল দিতে হয়। যখনই তিনি তাকে ফোন করেন সে হয় ক্লাসে থাকে, না হয় চেম্বারে। তার সাথে কথা বলার জন্য তিনি ছটফট করেন কিন্ত আশফাকুরের সময় হয় না। সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে, বাবা আমি ফ্রি হয়ে আপনাকে ফোন দেব। বলেই ফোন রেখে দেয়। আখলাকুর রহমান সব সময় ফোনটাকে হাতের কাছে রাখেন। ফোন বাজলেই মনে হয় আশফাকুর ফোন করেছে। আশফাকুরের নম্বর তার মোবাইলে ‘বাবা’ নামে সেভ করা। অচেনা কোনো নম্বর থেকে ফোন এলেও মনে হয় আশফাকুরের ফোন। তিনি ফোন ধরে ব্যকুল গলায় হ্যালো বলেন। ওপাশে অন্য কোনো গলা শোনা যায়।
আশফাকুরের স্ত্রীও ডাক্তার- গাইনির। সেই গাইনি কোন এক অজ্ঞাত কারণে তাকে সহ্য করতে পারে না। গত এক বছরে মাত্র একবার তিনি বড় ছেলের বনানীর বাসায় গেছেন। সকালে গেছেন দুপুরে চলে এসেছেন। আশফাকুরের সঙ্গে দেখা হয়নি। গাইনি তার সামনেও আসেনি। তিনি কাজের মেয়ের হাতে চা খেয়ে চলে এসেছেন।
আশফাকুরের কোনো ছেলে-মেয়ে নেই। দুজনের সংসার-- গাড়ি তিনটা। তিনটি গাড়ির মধ্যে দুটো পাশাপাশি পার্ক করা। তিনি সেই গাড়ি দুটোর পাশ দিয়ে হেঁটে গেটের কাছে গেলেন। দারোয়ান তাকে চেনে। এই বাড়ির সবচেয়ে বড় ফ্ল্যাটের মালিকের বাবা বলে তাকে খানিকটা সম্মানও করে। দারোয়ান এগিয়ে এসে বললো, আংকেল সিএনজি ডেকে দেবো?
আখলাক সাহেব ঘাড় নাড়লেন। মিনিট দশেক হাঁটলে বনানী বাসস্ট্যান্ড। তিনি বাস ধরে মালিবাগে যাবেন। সেখান থেকে টেম্পুতে করে গোড়ান। কিছুক্ষণ আগেও আকাশ পরিস্কার ছিলো। হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি শুরু হলো, বড় বড় ফোটায় বৃষ্টি। সাথে ঝড়। রাস্তায় যে যেখানে ছিলো, ছুটে আশেপাশের দোকানে ঢুকে পড়লো। আখলাক সাহেব ঢুকলেন না। প্রবল বৃষ্টি আর ঝড়ের মধ্যেও তিনি হেঁটে যাচ্ছেন। তার পাঞ্জাবী বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। পুরো শরীর ভিজে গেছে। তিনি হেঁটেই যাচ্ছেন। এমন প্রবল বৃষ্টিতে তার একটা মধুর স্মৃতি আছে। আশফাকুরের যেদিন জন্ম হয়েছিলো সেদিনও প্রবল বৃষ্টি হয়েছিলো। ঠিক এই রকমই বৃষ্টি। হঠাৎ বৃষ্টি। সাথে ঝড়, ঠিক এই রকমই ঝড়। প্রবল বাতাসে গাছের ডালগুলো নুয়ে পড়েছিলো। তিনি সারাক্ষণ বারান্দায় বসে দোয়া পড়ছিলেন। আল্লাহ পাক তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পুরণ করেছেন। বিয়ের বারো বছর পরও যখন তার আর জাহানারার কোন সন্তান হচ্ছিলো না, সবাই আশা ছেড়ে দিয়েছিলো। তিনি নিজে ছাড়েননি। জাহানারাকেও কখনো হতাশ হতে দেননি। অনেক সাধনা করেছেন। একবার চাকরি-বাকরি ছেড়ে তবলিগ জামাতের সাথে চল্লিশ দিনের চিল্লায় চলে গেছেন। শহরে গিয়ে হাসপাতালের বড় ডাক্তারকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন, কবিরাজ- মৌলানা যেখানে যার নাম শুনেছেন ছুটে গেছেন। তাদের চেষ্টা বিফলে যায়নি। এক প্রবল ঝড়ের দিনে জাহানারার কোল আলো করে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান এসেছে। খুশিতে দিশেহারা হয়ে আখলাক সাহেব প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই আজান দিতে উঠানে নেমে গেলেন। তিনি আজান দিচ্ছেন, বৃষ্টিতে তার সারা শরীর ভিজে যাচ্ছে। বৃষ্টির শব্দে তার আজান ঢাকা পড়ে যাচ্ছে, তিনি সমস্ত শক্তি দিয়ে আজান দিয়েই যাচ্ছেন। যে করেই হোক এই আজানের শব্দ সারা পৃথিবীতে তাকে ছড়িয়ে দিতে হবে।
বাসায় ফেরার পর সেই রাতেই প্রচন্ড জ্বর এলো আখলাক সাহেবের। তার এজমার সমস্যা আছে। বৃষ্টিতে ভেজায় সেই সমস্যাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। তিনি আশফাকুরকে ফোন দিলেন। তিনবার চেষ্টা করলেন। কিন্তু আশফাকুর ফোন ধরলো না। আশফাকুরের সাথে কথা বলার জন্য তার মনটা ব্যকুল হয়ে উঠেছে। তার বারবার মনে হয়েছে আশফাকুরের সাথে একবার কথা বলতে পারলেই তার সব অসুখ ভালো হয়ে যেত।
আখলাক সাহেবের জ্বর ভালো হলো তিনদিনের মাথায়। এই তিনদিন তিনি বাসা থেকে বের হননি। সারাদিন বিছানায় শুয়েছিলেন। শুয়ে শুয়ে একটা আইডিয়া তার মাথায় এসেছে। আশফাকুরের সাথে দেখা করার একটা উপায় তিনি বের করেছেন।
-----------------------------------
চেম্বারটা বেশ ছিমছাম। এর আগে কখনো তিনি এই চেম্বারে আসেননি। ঢুকতেই রিসেশপন। ওয়েটিং রুম অনেক বড়। দেয়ালে দেয়ালে হার্টের ছবি। কী খেলে হার্ট ভালো থাকবে, হার্ট এ্যটাক এড়াতে কী করতে হবে সেই সব উপদেশ। একটা অতিশয় স্মার্ট মেয়ে এপোয়েন্টমেন্ট ম্যানেজ করছে। তিনি এগিয়ে গিয়ে নিজের নাম বললেন। স্মার্ট মেয়েটা হেসে বললো, আপনার সিরিয়াল ৩৬। দুই ঘন্টা বসতে হবে। আপনি পেমেন্ট ক্লিয়ার করে ওইদিকটায় বসুন।
আখলাক সাহেব ভিজিট বাবদ এক হাজার টাকা পরিশোধ করলেন। তারপর কোণের দিকে একটা চেয়ারে চুপচাপ বসে অপেক্ষা করতে লাগলেন। তাকে দুই ঘন্টা অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিলো। তিন ঘন্টা ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে। এখন সিরিয়াল চলছে ৩২। এতক্ষণ বসে বসে তিনি হিসেব করেছেন একেক জন রোগীর ১২ থেকে ১৫ মিনিট করে সময় লাগছে। সেই হিসেবে আরো ঘন্টাখানেক তাকে বসতে হবে।
স্মার্ট মেয়েটা আখলাক সাহেবের নাম ধরে ডাকলেন। দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ হতে তার অন্যরকম একটা অনুভূতি হলো। তিনি ডাক্তারের পর্দাঘেরা রুমের দিকে এগিয়ে গেলেন। একজন এটেনডেন্ট তাকে ডাক্তারের রুমে নিয়ে যেতে এসেছিলো। তিনি বললেন, আমি একা যেতে পারবো। আরেকটা কথা, ডাক্তার সাহেব না ডাকলে আপনি দয়া করে ভেতরে আসবেন না।
এটেনডেন্ট খানিকটা অবাক হয়ে বললো, ওকে স্যার।
আখলাক সাহেব ভেতরে ঢুকলেন। তার দিকে চোখ পড়তেই ডাক্তার সাহেব বিস্মিত চোখে উঠে দাঁড়ালেন, বাবা আপনি!
আখলাক সাহেব বললেন, আমি বাইরে অপেক্ষা করার সময়টাতে দেখেছি, একেকজন রোগীর জন্য তুমি ১২ থেকে ১৫ মিনিট সময় দাও। আমাকে তার চেয়ে কম সময় দিও না প্লিজ!
আশফাকুর অপ্রস্তুত হয়ে বললো, বাবা আপনি কী বলছেন!
আমার কোনো অসুখ নেই। তোমার দেখা পাবার জন্য আমার এছাড়া আর কোনো উপায় ছিলো না। তোমার তো কোনো সন্তান নেই। কী করে বুঝবে সন্তানকে দেখার জন্য একজন বাবার বুক কেমন করে! আখলাক সাহেবের চোখ ভিজে উঠলো। আশফাকুর কী বলবে বুঝতে পারছিলো না।
আখলাক সাহেব বললেন, আমি তোমার এই সময়টাকে কিনে নিয়েছি। এই পনেরো মিনিট আমি তোমার হাতটা ধরে তোমার পাশে বসে থাকতে চাই।
আশফাকুর কলিং বেল চাপলো। এটেনডেন্ট ভেতরে ঢুকলে সে বললো, আমি না ডাকা পর্যন্ত ভেতরে কাউকে পাঠাবে না।
আজ বোধ হয় পুর্ণিমার রাত। আকাশে খা খা জোছনা। স্ট্রিট ল্যাম্পের আলোয় জোছনার আর্তনাদ যেন শুনতে পাচ্ছেন আখলাক সাহেব। তিনি হেঁটে চলছেন রাস্তার এক পাশ ধরে। ফুটপাতে রাস্তার পাশের গাছগুলোর ছায়া পড়েছে। তার পাশ দিয়ে সা সা করে গাড়ি ছুটে চলেছে। আশফাকুর ড্রাইভার দিয়ে তাকে পৌছে দিতে চেয়েছিলো। তিনি রাজি হননি। রাজি হলে তিনি এই প্রশান্তির জোছনা কোথায় পেতেন!